
মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ ০৩/০২/২০২৫
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর হামলার ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় জিঞ্জাসাবাদ শেষে সাবেক জন প্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে মেহেরপুর আদালত।সোমবার সকাল ১১ টায় মেহেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম শারমিন নাহারের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় রাষ্ট্র পক্ষ পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এ মামলায় অপর আসামীরা হলেন ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সরফরাজ হোসেন মৃদুল, ভগ্নিপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস। এই দুই আসামিকেও আদলত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মারুফ আহম্মেদ বিজন এবং মোখলেছুর রহমান স্বপন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট একেএম শফিকুল আলম, মিয়াজান আলী, আব্দুস সালাম এবং ইয়ারুল ইসলাম।এ দিকে রিমান্ড শুনানির সময় আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। আদালত চত্বর থেকে জেলখানায় প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মীরা ফরহাদ হোসেনকে উদ্যোশ্য করে অসংখ্য ডিম ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এসময় সেনাবাহিনী র্যাব ও পুলিশ বাঁধা দিলে আদালত চত্বরের মুল ফটক বন্ধ করে দেয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মীরা।উল্লেখ্য গত ৫ আগস্ট মেহেরপুর সদর উপজেলার দরবেশপুর গ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন রাশেদুল ইসলাম। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে ফরহাদ হোসেনকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে গত ২৯ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মেহেরপুরে আনা হয়। এর পর ৩০ জানুয়ারি কঠর গোপনীয়তায় তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত জেল গেটে দুদিনের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়ে ছিলেন।এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন এলাকা থেকে র্যাবের হাতে তিনি গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ মেহেরপুরে একাধিক হত্যা ও অন্যান্য মামলা রয়েছে।