সংবাদ শিরোনাম :
«» গাজীপুর ১ আসনে আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এর প্রতি ওয়ার্ডে নৌকার প্রচারনা «» গাজীপুর ২ আসনে জাহিদ আহসান রাসেল এর নৌকার ব্যাপক প্রচারণা «» ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট যাত্রীদের চরম ভোগান্তি «» শার্শায় নৌকা প্রতীককে জয়ী করার লক্ষে উপজেলা ছাত্রলীগের তলবী সভা «» শার্শা থানা পুলিশের নির্বাচনী মহড়া «» গাজীপুর ২ আসনে জাহিদ আহসান রাসেল এমপি’র নৌকার প্রচারণায় খাদিজা রাসেল «» গাজীপুরে-২ আসনে নৌকার পক্ষে জাতীয় শ্রমিক লীগের মিছিল «» পত্র-পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ায় বেনাপোল স্থল বন্দরে সচল লোড আনলোড «» গাজীপুরে ছুরিকাঘাতে নিহত ১ «» বেনাপোলের সীমান্তে ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় ৯ জন আটক ও বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল জব্দ

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ ঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশান্তর ডেস্ক ঃ দেশের মানুষ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা

অব্যাহত রাখুন। পঁচাত্তরের পর জিয়া-এরশাদ ও খালেদা জিয়া কেউই দেশের উন্নতি করতে পারেননি। আপনারা নৌকায় ভোট দেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আমি আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আমরা চাই ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই।রোববার বিকালে চাঁদপুর স্টেডিয়াম মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে শেখ হাসিনা আরও বলেন, নৌকা মার্কা আপনাদের মার্কা। এ নৌকা মার্কা সব সবময় মানুষকে উদ্ধার করে। নূহ নবীর নৌকা মানবজাতি এবং পশুপাখি সব রক্ষা করেছিল। এ নৌকায় ভোট দিয়ে আপনারা স্বাধীনতা পেয়েছেন, তাই আগামীতে যে নির্বাচন (নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরে) হবে, সেই নির্বাচনে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আওয়ামী লীগ মানুষের নিরাপত্তা দেয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে একটা মানুষও গৃহহীন থাকবে না। আমরা গৃহহীনদের ঘর করে দেব। বেলা ১১টায় হাইমচরের চরভাঙ্গায় বাংলাদেশ স্কাউটসের ৬ষ্ঠ জাতীয় ‘কমডেকা’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দুপুর পৌনে ১টা থেকে বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত জোহরের নামাজ এবং মধ্যাহ্ন বিরতির সময় তিনি চাঁদপুর সার্কিট হাউসে অবস্থান করেন। বেলা ৩টা ৬ মিনিটে তিনি জনসভাস্থল চাঁদপুর স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। জনসভা মঞ্চের পাশে স্থাপিত ইলেকট্রনিকস বোর্ডে সুইচ টিপে ২৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ২৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি জনসভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে উপস্থিত জনসমুদ্রের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রীকে জেলাবাসীর পক্ষ থেকে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চাঁদপুরের ঐতিহ্য ‘প্রতীকী ইলিশ’ দিয়ে বরণ করে নেন। প্রধানমন্ত্রী বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে জনতার উদ্দেশে ভাষণ শুরু করেন এবং শেষ করেন ৪টা ১১ মিনিটে। দীর্ঘ ৩১ মিনিট বক্তব্যে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও আগামী দিনের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা।চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আবদুর রহমান ও জাহাঙ্গীর কবীর নানক, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাফিয়া খাতুন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন, নূর জাহান মুক্তা প্রমুখ। জনসভা সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। জনসভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ড. শাম্মী আহমেদ, দোলোয়ার হোসেন, রিয়াজুল কবীর কাওছার, বিপ্লব বড়–য়া, আবু আব্বাস প্রমুখ।প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর স্টেডিয়াম দুপুর ১২টার মধ্যেই লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। জনসভায় যোগ দিতে সকাল থেকেই চাঁদপুরের ৮টি উপজেলা-চাঁদপুর সদর, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, হাইমচর, ফরিদগঞ্জ, কচুয়া, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। এ সময় ঢাক-ঢোল ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে উল্লাস প্রকাশ করেন তারা। মাথায় ক্যাপ, ব্যান ও হাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার-ফেস্টুনসহ স্লোগান দিতে দিতে জনসমাবেশে আসেন সবাই। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপল?ক্ষে চাঁদপুরের প্রবেশ পথসহ প্রধান প্রধান সড়কে তৈরি করা হয়েছে শত শত তোরণ। শহরজুড়ে শোভা পাচ্ছিল হরেক রকম ব্যানার-ফেস্টুন ।‘ওদের (বিএনপির) লজ্জা-শরম একটু কম’- এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, লজ্জা-শরম কম এজন্যই বলব, যারা স্বাধীনতাই বিশ্বাস করে না। ওরা তো বাংলাদেশের সৃষ্টিতেই বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এটাই যেন ওরা মেনে নিতে পারে না। আপনারাই তুলনা করে দেখেন, ১৯৭৫ এর পর থেকে যারা ক্ষমতায় ছিল, ওই জিয়া বলেন, এরশাদ বলেন, খালেদা জিয়াই বলেন বাংলাদেশের তো কোনো উন্নতি করতে পারে নাই। চাঁদপুরের কী উন্নতিটা করেছে তারা? হ্যাঁ, উন্নতি হয়েছে তাদের। উন্নতি হয়েছে দুর্নীতির। টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের মাথা হেঁট হয়েছে বিশ্ব দরবারে। নিজেরা লুটপাট করেছে, টাকা পাচার করেছে বিদেশে।ইলিশের ব্র্যান্ডিং শহর চাঁদপুর। ‘ইলিশের বাড়ি’ও বলা হয়ে থাকে এই নগরীকে। মেঘনা নদী ঘেষা চাঁদপুরের ইলিশ দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ জনপ্রিয় মাছ। ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে এলেও প্রধানমন্ত্রী এদিন দুপুরের খাবারে ইলিশ মাছ খাননি। ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় খাবার মেন্যুতে ইলিশ না রাখার বিষয়টি আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদপুরে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, চাঁদপুরে একটা মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করে দেব। কারণ আপনাদের সংসদ সদস্য নিজেই একজন ডাক্তার। উনি দাবি করেছেন, এটা করে দেব।সর্বশেষ ২০১০ সালের ২৫ এপ্রিল চাঁদপুর সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময়ে চাঁদপুরের গুনরাজদী বালুর মাঠে ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরও ১১ বছর আগে ১৯৯৯ সালের ২৮ নভেম্বর চাঁদপুর সফরকালে নতুনবাজার-পুরানবাজার সেতু ও চাঁদপুর পৌর অডিটরিয়ামের ভিত্তিফলক স্থাপন এবং জেলা কালেক্টরেট ভবন ও আদালত ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেছিলেন শেখ হাসিনা।বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লুটপাট করেই থেমে থাকেনি, এতিমের টাকা এসেছে বিদেশ থেকে, একটা টাকাও এতিমের হাতে যায়নি। সব টাকা লুটপাট চুরি করে খেয়েছে। আজকের সেই এতিমের টাকা চুরির দায়ে মামলায় সাজা ভোগ করছে খালেদা জিয়া। আর তার জন্য নাকি আন্দোলন করে। আপনারা জানেন, কোরান শরীফে বলা আছে, এতিমের হক এতিমকে দাও। এতিমের সম্পদ তোমরা চুরি করো না। তাদের লোভ এত বেশি যে, লোভের মাত্রা তাদের ছাড়িয়ে গেছে। কোরআন শরিফে আছে, এতিমের হক কেড়ে নিও না। সেই অপকর্ম করতে বিএনপি নেত্রী পিছপা হয়নি।দীর্ঘ ৮ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বর্ণিল সাজে সেজেছে চাঁদপুর। আয়োজনের কমতি করেনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ। শহরের অলিগলি ছেয়ে গেছে ব্যানার-ফেস্টুন আর পোস্টারে। চাঁদপুরবাসীর এই ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।শেখ হাসিনা বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আইভি আপাসহ আমাদের অনেক নেতাকর্মী মারা গেছে। এই চাঁদপুরেরও আমাদের একজন কর্মী মারা গেছে। বারবার একইভাবে ওরা আঘাত দেয়ার চেষ্টা করেছে, বেঁচে গেছি। আমার লক্ষ্য একটাই, বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭ম নির্বাচনী জনসভা এটি। ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনীজনসভা শুরু করেন তিনি। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল, ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী, ৩ মার্চ খুলনা, ২১ মার্চ চট্টগ্রাম এবং ২৯ মার্চ ঠাকুরগাঁওয়ে জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি জনসভায় তিনি নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। জনসভাগুলোয় উপস্থিত জনতাকে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। রোববার চাঁদপুরের জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে হাত তুলে প্রতিশ্রুতি নেন প্রধানমন্ত্রী।চার নেতার ব্যাপক শোডউন : প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় চার নেতা- মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. দীপু মনি, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও সুজিত রায় নন্দীর সমর্থকদের শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মতো। শহরের অলিগলি ছেয়ে গেছে এ চার নেতার ছবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে। জনশক্তির প্রদর্শনীও ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রত্যেক নেতার অনুসারীদের সে াত ছিল স্টেডিয়ামের দিকে।শেখ হাসিনা বলেন, এ এলাকার হাইমচরে একটা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আমরা করে দেব, যাতে লোকজনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। পর্যটনের একটা ব্যবস্থা আমরা করে দেব। এটা নৌভ্রমণের জন্য একটা সুন্দর জায়গা। পদ্মা-মেঘনার সঙ্গমস্থল।সজ্জিত চাঁদপুর শহর শুক্রবার রাতের ঝড়ে কিছুটা বিধ্বস্ত হয়েছে। রাস্তার পাশের তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুন, পোস্টারগুলো ছিঁড়ে একাকার হয়ে যায়। শনিবার সারা দিন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এগুলো মেরামত করতে দেখা যায়। সন্ধ্যার পর চাঁদপুর শহর ফের বর্ণিল সাজে আÍপ্রকাশ করে। শহরের প্রধান সড়কের দুই পাশে বড় বড় বিলবোর্ড আর তোরণে শোভা পায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র। অভিনন্দন জানিয়ে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ব্যক্তিরাও তোরণ ও বিলবোর্ড দিয়ে সড়ক সাজিয়ে তুলেন।এক ডজন দাবি চাঁদপুরবাসীর : জনসভায় আসা নানা পেশার মানুষ ব্যানার-ফেস্টুনে তাদের বিভিন্ন দাবির কথা তুলে ধরেন। মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে কমপক্ষে এক ডজন দাবি করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। দাবিগুলো হল- চাঁদপুরে মেডিকেল কলেজ করা, চাঁদপুর লাকসাম রেলপথ ডাবল (দুই লাইন) করা, চাঁদপুর-শরীয়তপুর রুটে পদ্মা-মেঘনা সেতু নির্মাণ করা, চাঁদপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন করা, চাঁদপুরকে পর্যটন শহর ঘোষণা করা, ঢাকা-চাঁদপুর রুটে যাত্রীবাহী সরকারি জাহাজ সার্ভিস চালু করা, চাঁদপুরে একটি বিমানবন্দর স্থাপন করা, চাঁদপুর স্টেডিয়ামকে আধুনিকায়ন করা, চাঁদপুর-রায়পুর সেতুর টোল আদায় বন্ধ করা, চাঁদপুর সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা, দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং ঢাকা-চাঁদপুর রেল লাইন স্থাপন।২৩টি প্রকল্প উদ্বোধন : প্রধানমন্ত্রী ২৩টি প্রকল্প উদ্বোধন করেন। সেগুলো হল- চাঁদপুর জেলা পরিষদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্টাফ কোয়ার্টার, চাঁদপুর পৌরসভায় পুরানবাজার ভূপৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগার, চাঁদপুর পৌরসভায় নতুনবাজার ভূপৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগার ও উচ্চ জলাধার, পুরানবাজার ইব্রাহীমপুর সাখুয়া এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প সংরক্ষণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত), মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকা সংরক্ষণ (হাইমচর) ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত), চাঁদপুর সরকারি কলেজের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা শেখ মুজিব ছাত্রী নিবাস, পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের চার তলা একাডেমিক ভবন, মতলব উত্তর সুজাতপুর ডিগ্রি কলেজের চার তলা একাডেমিক ভবন, একই উপজেলার কালীপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের চার তলা একাডেমিক ভবন, কচুয়া উপজেলার বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের চার তলা একাডেমিক ভবন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লাউতলী ডা. রশিদ আহম্মেদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের চার তলা একাডেমিক ভবন। এছাড়া আরও আছে, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, মতলব উত্তর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, জেলার ৮ উপজেলায় ৬০ জন ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার জন্য বাসস্থান, হাইমচর উপজেলাধীন পুরান বাজার (ডেলের বাজার)-হাইমচর-চরভৈরবী সড়ক উন্নয়ন, চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন রালদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্প্রসারণ, সদর উপজেলায় হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্প্রসারণ; চাঁদপুর পৌরসভায় আমীনুল হক পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্প্রসারণ; কদমতলা পৌর সুপার মার্কেট; স্বৈরাচারবিরোধী ’৯০-এর গণআন্দোলনে শহীদ ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউর রহমান রাজু স্মরণে ‘রাজু চত্বর’; ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি এবং চাঁদপুর ও মতলব ধনাগোদা নদীর ওপর সেতু ‘মতলব সেতু’।২৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেগুলো হচ্ছে- করামতলব দক্ষিণ উপজেলায় গালিম খাঁ চাঁদপুর-কুমিল্লা সংযোগ স্থানে সীমানা গেট নির্মাণ; কচুয়া উপজেলায় জগৎপুর অংশে চাঁদপুর-কুমিল্লা সংযোগ স্থানে সীমানা গেট নির্মাণ; ফরিদগঞ্জ উপজেলায় চরমান্দারী চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর সংযোগ স্থানে সীমানা গেট নির্মাণ; মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ; মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ; কচুয়া উপজেলা পরিষদে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ; হাইমচর উপজেলা পরিষদে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ; হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ; কচুয়া পৌরসভায় ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ; মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে চাঁদপুর-শরীয়তপুর রুটে জেলার হরিণা ফেরিঘাট এবং চরভৈরবী এলাকার কাটাখাল বাজার রক্ষা প্রকল্প। এছাড়া আরও আছে- ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাশারা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ; সাহেবগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ; মতলব দক্ষিণ উপজেলার হযরত শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ; নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ; মতলব পৌর ভূমি অফিস নির্মাণ; নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ; সদর উপজেলাধীন বালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ; শাহরাস্তি উপজেলায় রাগৈ ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ; কচুয়া উপজেলায় কচুয়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ; কাদলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ; হাইমচর উপজেলাধীন ঈশানবালা জিসি-শরীয়তপুর-চাঁদপুর আরঅ্যান্ডএইচ সড়ক উন্নয়ন; মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ; চাঁদপুর পরিবার পরিকল্পনা অফিস নির্মাণ এবং চাঁদপুর পৌর অফিস ভবন নির্মাণ।হাইমচরে ‘কমডেকা’ উদ্বোধন : চাঁদপুর থেকে প্রবীর চক্রবর্তী জানান, রোববার সকালে হাইমচরের চরভাঙ্গা এলাকার মেঘনাপাড়ে অনুষ্ঠিত স্কাউটসের ষষ্ঠ জাতীয় সমাজ উন্নয়ন ক্যাম্প ‘কমডেকা’ সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের সরকার স্কাউটস কার্যক্রমের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সর্বাÍক সহযোগিতা প্রদান করছে। স্কাউটস শতাব্দী ভবন নির্মাণ ও স্কাউটিং সম্প্রসারণের জন্য ১২২ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কাবিং সম্প্রসারণের জন্য আরেকটি প্রকল্প অচিরেই অনুমোদন দেয়া হবে। জাতীয় স্কাউসট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য ৯৫ একর বনভূমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি। বিভিন্ন জেলায় ও অঞ্চলে স্কাউট ভবন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।এর আগে বেলা ১১টার দিকে হাইমচর ডিগ্রি কলেজ মাঠে নির্মিত হ্যালিপ্যাডে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। এরপর উপজেলার চরভৈরবী সড়ক হয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি কমডেকা সম্মেলন স্থলে এসে পৌঁছে সোয়া ১১টায়। পতাকা হাতে স্কাউটস সদস্যরা প্যারেডের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানায়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ডা. দীপু মনি এমপি, সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সুজিত রায় নন্দীসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।প্রসঙ্গত, ‘টেকসই সমাজ বিনির্মাণে স্কাউটিং’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে চাঁদপুরে চলছে ৬ষ্ঠ জাতীয় কমডেকা সম্মেলন। ৩১ মার্চ শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত। চাঁদপুরের হাইমচরের চরভাঙ্গা এলাকায় অনুষ্ঠিত সম্মলনে প্রায় ৭ হাজার স্কাউটস সদস্য অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ভারত, নেপাল ও আমেরিকা থেকে ২৫ জন স্কাউট সদস্য রয়েছে।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *