সংবাদ শিরোনাম :
«» যশোরের বেনাপোলে ছাত্রলীগ নেতার বাড়ি থেকে বোমা তৈরীর সরঞ্জম,ম্যাগজিন, গুলি ও মাদক উদ্ধার «» কালিয়াকৈরে ভাষা সৈনিক ও সাবেক মন্ত্রী সামসুল হকের মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল «» নবীনগর মেঘনা নদী ভাংঙ্গনরোধে অস্থায়ী প্রকল্প উদ্ধোধন «» টঙ্গীতে মাদক বিরোধী অভিযান «» কালিয়াকৈরে কৃষকের নিজ জমি থেকে গাছ কাটার অভিযোগ বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে «» আজ শ্রীলংকার বিপক্ষে সাকিবের খেলা অনিশ্চিত! «» কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী «» ইয়াবা পাচারের বড় রুট রেল «» দুই দিনে ৯টি বুথে হানা দিয়ে তুলে নেয় ১৫ লাখ টাকা «» আসন্ন কলের বাজার ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি বার্ষিক নির্বাচনে সকলের দোয়া ও ভোট প্রত্যাশি

উড়ালসড়ক ও সেতুতে সুফল মিলছে যানজট মুক্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক.

মাইনুল সিকদার, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। দুই ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের ছুটিতে এই পথে গ্রামের বাড়িতে ফিরেন অসংখ্য মানুষ। এমন কেউ নেই এই চন্দ্রা ত্রিমোড়ে যানজটে আটকা পড়ে নাজেহাল হননি। বিভিন্ন ছুটি ছাড়াও ঘন্টার পর যানজট লেগে থাকতো এই মোড়ে। একই চিত্র ছিল গাজীপুরের কোনাবাড়ীও। গত ২৫ মে কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা উড়ালসড়কসহ কয়েকটি সেতু খুলে দেওয়ায় সুফল পেতে শুরু করেছেন এ মহাসড়কের চলাচলরত চলাচলকারীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা ত্রিমোড়ে যানবাহন আর থামছে না। গাজীপুরের দিক থেকে উত্তরবঙ্গের দিকে আবার উত্তরবঙ্গের দিক থেকে গাজীপুরের দিকে যে পরিবহনগুলো যাবে, তারা উড়ালসড়ক ব্যবহার করে চলে যাচ্ছে। কোথাও তাদের থামতে হচ্ছে না। অন্যদিকে যে পরিবহনগুলো উত্তরবঙ্গের দিক থেকে সাভারের নবীনগর হয়ে ঢাকা প্রবেশ করবে আবার ঢাকার দিক থেকে সাভারের নবীনগর হয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাবে, তারা চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় উড়ালসড়কের নিচ দিয়ে চলে যাচ্ছে। যার কারণে কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা চিমোড়ে চিরচেনা সেই যানজট দেখা যাচ্ছে না। উড়ালসড়ক ও সেতু খুলে দেওয়ায় যানজট মুক্ত এ মহাসড়ক। চন্দ্রা ত্রিমোড়ে বাস চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, আগে এ মহাসড়কে ৩০ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে ৩ থেকে ৮ ঘন্টা লাগতো। এখন চন্দ্রা ও কোনাবাড়ি এলাকায় ফ্লাইওভারের কারণে সেই পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মিনিট। এখন আর যানজটে বসে থাকতে হয় না। বাস চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, চন্দ্রা ও কোনাবাড়ি ফ্লাইওভার খুলে দেওয়ার পর নিচ দিয়েও যানজট ছিল না। তবে কোনাবাড়ি এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচে এখনো অনেক বাকী। এ কারণে সেখানে একটু ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। এলাকাবাসী, যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও পুলিশ জানায়, দেশের উত্তরবঙ্গের ২৩টি জেলার ১১৮টি রোডের হাজার হাজার যানবাহন প্রতিদিন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের একমাত্র সহজ এটি। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।

যানজটে আটকে পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যানবাহনে বসে থাকতে হতো। ভাঙ্গাচুরা সড়কে এলোমেলো গাড়ি চলাচল ও ধুলোয় ধুসর হয়ে উঠতো মহাড়সকটি। এসব কারণে অসুস্থ হয়ে পড়তেন অনেক যাত্রী। আবার সময় মতো পৌছতে না পেরে অনেকেই নানা সমস্যার সম্মুখিন হতেন। বিশেষ করে দুটি ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এছাড়া প্রহেলা বৈশাখ, পুজাসহ বিভিন্ন উৎসব ছুটিতেও দুর্ভোগ কম ছিল না। এ মহাসড়কের গাজীপুরের কড্ডা, কোনাবাড়ি এবং কালিয়াকৈরের চন্ত্রা ত্রিমোড় ছিল যানজটের অভয়াশ্রম। এখানকার হাইওয়ে, জেলা ও থানা পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন এসব এলাকার যানজট নিরসনে ব্যস্ত ছিল। কিন্তু তারা যানজট নিরসনে ছিল বরাবরই ব্যর্থ। ফলে দুটি ঈদে অন্য জেলা-থানা পুলিশ এসব এলাকায় যানজট নিরসনে কাজ করেছে। তাদের পাশাপাশি স্কাউট শিক্ষার্থীরা যানজট নিরসনে কাজ করে। তবুও লেগেই থাকতো সেই চিরচেনা সেই যানজট। ফলে এ পথে যাতায়াতের কথা শুনলেই শরীরে গাম ঝরা শুরু হতো। ফলে এ মহাসড়কটি চারলেনে উন্নতি করণ কাজটি হাতে নেয় বর্তমান সরকার। এ প্রকল্পে ৯টি উড়াল সড়ক, ২টি রেলওয়ে ওভারপাস ব্রিজ, ২৬টি সেতু নির্মাণ, ৭৪টি কালভার্ট সম্প্রসারণ, ৭টি আন্ডারপাস ও ১৩টি পথচারী সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে কালিয়াকৈর উপজেলার গোয়ালবাথান এলাকার এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দেওড়া এলাকার দুটি রেলওভার ব্রিজ খুলে দেওয়া হয়েছে আগেই। এবার ঈদে নিরাপদে ও নির্বিঘেœ ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরার জন্য কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা ত্রিমোড়ে দুটি উড়ালসড়ক খুলে দেওয়া হয়। এছাড়া দুটি সেতুসহ চারটি ওভারপাস খুলে দেওয়া হয়। গত ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব উড়াল সড়ক ও সেতু উদ্বোধনের পরপরই যানচলাচলের চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। সুফল পেতে শুরু করেছেন এ মহাসড়কের চলাচলরত চলাচলকারীরা। উড়ালসড়কের উপর উঠলে মনে হয় উন্নত বিশ্বের কোন যানজট মুক্ত মহাসড়ক। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এটি খুলে দেওয়ার ফলে এবার ঈদে এ মহাসড়ক দিয়ে নিরাপদে ও নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরবে ঘরমুখো মানুষ। সালনা (কোনাবাড়ি) হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, উড়ালসড়ক সেতু খুলে দেওয়ার পর কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা ত্রিমোড়ে আর কোনো যানজট নেই। তারপরও ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘেœ করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি ২৫০ জন হাইওয়ে পুলিশ সদস্য বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হবে। তবে এবার মহাসড়কটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *