সংবাদ শিরোনাম :
«» বেকারী ও খাবার হোটেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান «» বেনাপোল কাস্টমস এর এনজিও কর্মী সাদ্দামসহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-২ «» বেনাপোল উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করবে “বেনাপোল এক্সপ্রেস” জানালেন রেলওয়ে মহা-পরিচালক «» কালিয়াকৈরে ট্রাক চাপায় গ্রাম্য চিকিৎসক নিহত «» কালিয়াকৈরে তুরাগ নদী থেকে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত উলঙ্গ লাশ উদ্ধার «» শার্শা উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটি ও চোরাচালান নিরোধ কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত «» যশোর জেলায় ১০৩ টাকায় স্বচ্ছতা ও নিজ যোগ্যতায় পুলিশ হলেন ২২৩ জন «» ঘরে বসে কোন পকেট কমিটি গঠন করা হবেনা ——– আ.ক.ম মোজাম্মেল হক «» কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত «» গাজীপুরে পরিবেশ দূষনের কারণে দুইটি গার্মেন্টস কে ৪লক্ষ টাকা জরিমানা

কালিয়াকৈরে কৃষকের নিজ জমি থেকে গাছ কাটার অভিযোগ বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

মাইনুল সিকদার ঃ কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধি ঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের মনতলা পাবুরিয়াচালা এলাকায় ঢাকা বনবিভাগের কাচিঘাটা রেঞ্জের অধীনে কাচিঘাটা বিটের বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কৃষকের জমি থেকে বিভিন্ন ফলের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। জমির ডিমারগেশন ছাড়া, টেন্ডার বিহীন অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৮০/৯০বছরের আগের আম কাঠালসহ নানা ধরনের ফলের গাছ কেটে ফেলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। গাছ কাটার অভিযোগের ব্যাপারে কাচিঘাটা বিট কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল বলেন, মনতলা মৌজায় বনবিভাগের জমি ভোগ দখল করে গাছ লাগিয়েছেন খালেক সিকদার। বনের জমি উদ্ধার করে অন্যের নামে প্লট দেওয়ার জন্য গাছ কাটা হচ্ছে। তবে যে সকল গাছে ফল ধরেছে তা কাটতে নিষেধ করা হয়েছে। চিকন চিকন ছোট গাছ কাটার জন্য বলা হয়েছে। এলাকাবাসী ও বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলার কাচিঘাটা রেঞ্জ অফিসের আওতায় কাচিঘাটা বিট অফিস রয়েছে। ওই বিট অফিসের অধীনে মনতলায় মৌজায় পাবুরিয়াচালা এলাকায় মৃত- আতাউর রহমান মুনসীর ছেলে আব্দুল খালেক সিকদার(৯০) প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে ঘরবাড়ী ও গাছপালা রোপন করে ভোগ দখল করে আসছে। দক্ষিন মনতলা, উওরমনতলা ও পাবুরিয়াচালা তিনটি গ্রাম নিয়ে মনতলা মৌজায় ৩৯৩ খতিয়ানে ৩৫দাগে ৫২ খাদা জমি রয়েছে। প্রায় ৯০/৯৫ বছর আগে খালেক সিকদারের পিতা মহেরা জমিদারদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে। ওই জমির মধ্যে বনের জমি, খাস জমি ও অর্পিত এবং ক্রয়কৃত জমি রয়েছে। ওই জমির উপর খালেকের লাগানো বড় বড় বিভিন্ন ধরনের গাছ রয়েছে। জমির মালিককে কিছু না বলে ওই জমি থেকে গাছ কেটে নেয়। গাছের ব্যাপারে কোন টেন্ডার বা কোন অনুমতি বা গাছের মালিককে কিছু না বলে দেদারছে গাছগুলো কেটে ফেলে। বিট কর্মকর্তা কারোও নিষেধও মানেনি। গাছগুলো কেটে ফেলার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে ওই এলাকা। দীর্ঘ দিনের গাছ গুলো গাছের মালিককে না বলে কেটে নেওয়া হচ্ছে। গাছের মালিককে কোন গাছ বা গাছের টাকা দেওয়া হয়নি। তাছাড়া কোন জমি বনের তা ডিমারগেশন করে দেওয়া হয়নি। প্রায় শতবছর ভোগ দখল করার পর হঠাৎ অন্য কাউকে ওই জমি প্লট করে দেওয়ার ব্যাপারে বনবিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তা কেউ কিছুই জানেনা বলে জানা গেছে। বিট কর্মকর্তা তার নিজের ইচ্ছায় সকল নিময় কানুন বাদ রেখে ওই জমির বড় বড় ফলবান গাছ কেটে জমি অন্যকে দেওয়ার পায়তারা করছে। এ ছাড়া ওই বিটের বনপ্রহরী রফিকুল ইসলাম প্লটের গাছ কাটাসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে

পরেছে বলে একাধীক সুত্র জানিয়েছে। বনপ্রহরী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওই এলাকায় বিভিন্ন মানুষকে বন মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক সিকদার বলেন, আমার বাপদাদারা শত বছর ধরে ওই জমি ভোগ দখল করছেন। মহেরা জমিদার থেকে জমি ক্রয় করেছি ১৯৬৮ সালে। বিট কর্মকর্তা আমাদের কাগজপত্র না দেখে জমি থেকে বড় বড় আমার লাগানো গাছ কেটে নিচ্ছে। ওই দাগে বন, খাস ও অর্পিত এবং ক্রয়কৃত জমি রয়েছে। ডিমারগেশন ছাড়া জমির গাছ কাটা ঠিক হয়নি। বিট কর্মকর্তা আমাদের কোন কথা শুনতে চায়না উল্টো আমাদেরকে বন মামলা দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বিট কর্মকর্তা এ অফিসের যোগাদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছে। ছোট ঘর নির্মাণ করলেও মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন ওই কর্মকর্তা। এ ছাড়া প্লটের গাছ বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত বন কর্মকর্তার প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এব্যাপারে কাচিঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মহসিন বলেন, কাচিঘাটা বিটের অধীনে মনতলা মৌজায় পাবুরিয়াচালা এলাকায় কৃষকের জমি থেকে গাছ কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। ওই জমি বনেরও রয়েছে। তবে ডিমারগেশন করলে জমির মালিকানা বুঝে কাজ করা দরকার। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।

 

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *