সংবাদ শিরোনাম :
«» ঢাকা সিটি নির্বাচনে তুরাগ থানায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা «» কালিয়াকৈরে কভার ভ্যান চাপায় পোশাক কারখানার শ্রমিক নিহত «» তুরাগে বেদে সম্প্রদায়ের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ «» কালিয়াকৈরে পৌর আ’লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত «» বেনাপোলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে জরিমানা ৬৫ হাজার টাকা «» কাব্যচন্দ্রিকা একাডেমী পুরস্কার’২০২০ «» কেন্দুয়ায় আ.লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের  বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে এলাবাসীর মানববন্ধন «» বেনাপোল স্থলবন্দরে মজুরী বৃদ্ধির দাবীতে হ্যান্ডলিং শ্রমিক সংগঠনের মানববন্ধন পালিত «» টঙ্গীর হোন্ডা রোডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ «» বাবাকেও মারধরের অভিযোগ

হোমনার ৫ জয়িতার জীবন সংগ্রামে হার না মানার গল্প

মিনার সরকার, (হোমনা-কুমিল্লা) :
কুমিল্লার হোমনায় ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ এর আওতায় সেরা জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন মনোয়ারা বেগম, নাছরিন আক্তার সুমি, নাছিমা আক্তার, আনোয়ারা বেগম ও পারুল আক্তার এ পাঁচ নারী। তারা পুরুষ শাষিত সমাজের সব বাধা ও প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে জীবন সংগ্রামে জয়ী হয়েছেন।
সফল জননী নারী ঃ মনোয়ারা বেগম : আসাদপুর ইউনিয়নের আসাদপুর গ্রামের মনোয়ারা বেগম, স্বামী-মোঃ মোতালিব খান। ব্যাংকে সামান্য বেতনে চাকুরি করত। মনোয়ারা ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে অনেক পরিশ্রম করে সেলাইয়ের কাজ করে ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। তার মেয়ে জলি বেগম মাস্টার্স ডিগ্রি পাশ করে কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ছেলে মোঃ মাইনউদ্দিন ৩১তম বিসিএস ক্যাডারে কর্মকর্তা হিসেবে নেত্রকোনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।  শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ঃ নাছরিন আক্তার সুমি : শোভারামপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ শাহজালাল এর মেয়ে নাছরিন আক্তার সুমি। তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে সমাজের নিরীহ অসহায় মানুষের সেবা করা। কিন্তু হয়েছেও তাই। দারিদ্রতা তার বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় ছাত্রজীবন থেকেই প্রাইভেট পড়াতে শুরু করে। অধম্য মেধাবী নাছরিন ২০০৪ সালে স্থানীয় রামকৃষ্ণপুর কামালস্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, রামকৃষ্ণপুর কলেজ থেকে ২০০৬ সালে এইচএসসি এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে চৌদ্দগ্রাম পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত আছে। অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ঃ নাছিমা আক্তার
ঘারমোড়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামের নাছিমা আক্তার, স্বামী মোঃ রাসেল অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী নাছিমা আক্তার। তার স্বামী একজন দিনমজুর। ২০১৮ সালে তার পা ভেঙ্গে পঙ্গু হয়ে যায়। সংসার ও ৩ ছেলে মেয়ের লেখাপড়া নিয়ে অসহায় সংসারের হাল ধরেন। এক এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জমি পত্তন নিয়ে কৃষি কাজ শুরু করেন। তিনি ২১০ শতক জমি পত্তন নিয়ে কৃষি কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তার ৫টি গরু, ৮টি উন্নত জাতের ছাগল, ৬টি রাজহাঁস, ৭০টি দেশি মুরগি এবং ১০৮টি কবুতর পালন করছেন। সেই টাকায় ছেলে মেয়েদের লেখাপড়াসহ সংসার চলে যাচ্ছে। সে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু হওয়ায় নাছিমা এখন প্রতিবেশীদের কাছেও উজ্জ্বল নক্ষত্র। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্দ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী ঃ আনোয়ারা বেগম : নিলখী ইউনিয়নের মিরাশ গ্রামের আনোয়ারা বেগম, স্বামী মোঃ হারুন মিয়া। স্বামীর নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্দ্যমে জীবন শুরু করেছেন। সে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। বিয়ের পর থেকে তার স্বামী তার উপর নির্যাতন করতো। এক পর্যায়ে স্বামী তাকে তালাক দিলে ২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করেন। সে বাড়ি বাড়ি গোবর সংগ্রহ করে গুটে বানিয়ে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে বড় ছেলেকে একটি সিএনজি কিনে দিয়েছে এবং এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ২ ছেলে লেখাপড়া করছে। এখন তাদের সংসার ভালভাবে চলছে।  সমাজের উন্নয়নে কাজ করাই আমার জীবনের লক্ষ্য ঃ পারুল বেগম
জয়পুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী পারুল বেগম। ছোটবেলা থেকেই দরিদ্র মানুষের প্রতি ছিল তার অকৃত্রিম ভালোবাসা। দরিদ্র মানুষের সেবা করবেন এমনই ছিল তার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সেলাই প্রশিক্ষণ, বাল্যবিবাহ রোধ, অস্বচ্ছল মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া সহ এলাকায় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতা ও যৌতুক প্রথা বন্ধে কাজ করেছেন।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *