সংবাদ শিরোনাম :
«» টঙ্গীতে সড়ক দূর্ঘটনায় সাইকেল আরোহি জজ মিয়া নিহত। «» কালিয়াকৈরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের মাঝে ৪৭টি বকনা গরু বিতরণ «» আওয়ামীলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধো ডাঃ আইনুল হক হত্যা মামলার রায়ে হতাশা ও বিস্ময় জানিয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন «» গাজীপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল «» শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ, গাজীপুর মহানগর শাখা কমিটির অনুমোদন «» টঙ্গীতে আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা «» আনোয়ার হোসেনকে আহবায়ক নির্বাচিত করায় এলাকাবাসীর সন্তোষ প্রকাশ «» এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানদের বৈঠক ২৪ সেপ্টেম্বর «» গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর মৃত্যু «» গাজীপুরে ট্রেনের যন্ত্রাংশ খুলে ৬ কিমি রেললাইনের ক্ষতি

রসুল্লাবাদ গ্রামের সাবেক মেম্বার আবুল খায়ের চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

কাজল আহমেদ ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর। 
আমি মেনে নিতে পারছি না খায়ের কাকার মৃত্যটা। কিছু দিন আগে বাবাকে হারালাম অভিবাভক শুন্য হয়ে গেলাম। যারা বাবা নাই সেই শুধু জানে জীবনে বাবার কত প্রয়োজন। চারদিকি শুধু মৃত্যুর মিছিল  আর ভাল লাগেনা। মানুষ দুনিয়াতে আসবে আবার এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবে সেটা আল্লাহ পাকের চিরা-চরিত নিয়ম তারপরও কিছু মৃত্যু/ চলে য়াওয়া মেনে নেওয়া খুবই কষ্ট হয়। আজ সারাটা দিন খায়ের কাকার স্মৃতি গুলো চোখের সামনে ভাসচ্ছে। অনেক স্মৃতি খায়ের কাকার সাথে। অসুস্থ শরীর নিয়ে যে দিন কুমিল্লা যাবে সেই দিনও আমাকে ফোন করে বলে বাবা তুমি কোথায় আমাকে একটি গাড়ী ঠিক করে দেও আমি কুমিল্লা যাব। কুমিল্লা যাওয়ার পর দিন আমি ফোন করলাম কেমন আছেন কোথায় আছেন প্রতি উত্তরে আমাকে বলল কুমিল্লা সরকারী হসপিটালে আছি ভাল আছি তারপর থেকে ফোনে উনাকে আর পাই নাই। আমি কুমিল্লা থাকলে হয়ত হসপিটালে উনার সাথে শেষ কথা ও শেষ দেখা হত। কিন্তু বাড়ীতে থাকার কারনে সেই দেখাটা আর হল না। আমি বাড়ীতে থাকলে প্রায় সময় আমি এবং কাকা এক সাথে বসে অনেক ব্যাপারে আলাপ করতাম । শেষ কথা হয়েছিল ঈদের দুই দিন আগে বাজারে আলমাছ ভাই এর দোকানে। ঈদের পরের শুনলাম খায়ের কাকা অসুস্থ ফোন করলাম কিন্তু কথা হল না। কাকা অনেক সময় আমার মোবাইলটা নিয়ে আমার ফেসবুক আইডিটা দেখত আর একটু পর পর বলত ঠিক করে দে ছবি আসে না। ফোন করে বলত বাবা তুমি কোথায় বাজারে আস কথা আছে। আমি কোথাও কোন কাজে গেলে আমার সাথে খায়ের কাকাকে নিয়ে যাইতাম। খায়ের কাকার মিটিং এর  কথা এবং পয়েন্ট গুলো আমার খুব ভাল লাগত এবং গ্রাম্য শালিস বিচার তার কাছে শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু ছিল। কিছু দিন আগে কাকাকে নিয়ে সাবেক সেনা প্রধানের বাড়ীতে গিয়েছিলাম এক শালিসে সেখানে সেনা প্রধান কাকা কে দেখেই বলতেছে যে আপনি মনে হয় গ্রাম্য শালিসের ওস্তাদ সে জন্য আপনাকে নিয়ে এসেছে। সর্বশেষ কাকাকে নিয়ে মিটিং এ গিয়েছিলাম থুল্লাকান্দি সেখানে ও সকল বিচারক বলতেছে যে খায়ের মেম্বার যা করবে সেটাই আমরা মেনে নিব। আমরা পর পর দুই জন ৬ নং ওয়ার্ডের অভিবাভককে হারালাম গত ৪ বসৎর অাগে না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রান প্রিয় মরহুম জাহের মেম্বার মামা তিনি অতি আপন জন ছিলেন আমার খুবই আদর করতেন আমাকে। মরহুম জাহের মামা ও ছিলেন গরীব দুখি মানুষের অভিবাভক যে কোন কাজে ডাকলে সারা দিতেন। কেউ কোথাও কোন সমস্যার জন্য যাইতে বললে না বলার অভ্যাস ছিল না। যে কোন বিপদে মানুষের পাশে থেকে ভরসা দিতেন। বলত আমি জাহের  মরি নাই এত চিন্তা কর কেন আমি তো আছি। চলার পথে অনেক রাগা-রাগী হয়েছে কথা কাটা- কাটি হয়েছে এই দুই জনের সাথে। আমি দুই জন ব্যক্তিকে আমার অন্তরের অন্তরস্থল হইতে সব কিছু ক্ষমা করে দিয়েছি। আল্লাহ্ পাক যেন উনাদের কে ক্ষমা করে দেন। উনাদের কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগটা আল্লাহ পাক্ আমাকে দিল না।
আমার দুস্ত খন্দকার ইমদাদুল হক টিটন অকালে  চলে গেল আমাদের কে ছেড়ে যার কথা প্রতিনয়ত আমার মনে পরে। দোয়া করি আল্লাহ পাক যেন টিটনকে জান্নাতবাসী করে। টিটন ছিল আমার কয়েক জন বন্ধুদের মধ্যে অন্যতম। যতদিন এই পৃথিবীতে বেচে থাকব টিটনকে ভূলতে পারব না। আজ টিটনের কবরের একদম পাশেই খায়ের কাকা কবরস্থ হইল।
আজকে একটি ব্যাপার শুনে মনে খুব কষ্ট পেলাম খায়ের কাকার জানাযার সময় নাকি কিছু লোক পিছন থেকে চলে এসেছে জানাযা না দিয়ে। কারন জানাযায় বক্তিতা কেন? সময় নষ্ট হচ্ছে। কত সময় আমরা নষ্ট করি অথচ একটা মানুষের শেষ বিদায়ের সময় তার স্মৃতি চারন করার সুযোগ টা পর্যন্ত মানুষ দিতে চাই না।
আমরা কতটা স্বার্থপর  নিম খারাম এই জাহের মেম্বার/খায়ের মেম্বার যে জীবনে কত সময় নষ্ট করেছে সাধারন মানুষের জন্য সেটা হিসাব করে বের করা যাবে না। সর্বশেষে আমি দোয়া করি চির শান্তিতে থাকুক। আল্লাহ্ পাকের নিকট মরহুম ব্যক্তিদের সকল গুনা ক্ষমা চেয়ে  জান্নাত কামনা করছি।  আমিন।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *