সংবাদ শিরোনাম :
«» টঙ্গীতে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি’র ১৭তম শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া ও ইফতার মাহফিল «» বেস্ট অফ দ্যা মিলেনিয়াম এসএসসি ২০০০ব্যাচ বাংলাদেশ এর উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ «» গাজীপুরের টঙ্গীতে সেবক সংগঠনের উদ্যোগে মটর শ্রমিকদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ «» অন্তিম আলো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন এর পক্ষ থেকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ «» যশোরের শার্শা থেকে ০৪ কেজি গাঁজা সহ মহিলা আটক «» ২৩ রমজানেও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সেহরি বিতরণ অব্যাহত «» কমলাপুরের ছিন্নমূল মানুষদের জন্য সাহরীর ব্যবস্থা করল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ «» বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ইফতার বিতরণ «» বেনাপোলে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি, ক্রেতাদের ক্ষোভ «» ময়মনসিংহের ত্রিশালে পথশিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

আইপিএল নিয়ে জুয়ায় আসক্ত সাপের বিষ থেকেও খারাপ

আতাউর রহমান কাজল :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট খেলা নিয়ে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছে যুবসমাজ। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মুদি দোকান, সেলুন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ও ঘরে বসছে জুয়ার আসর। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা না থাকায় এ আসর দিন দিন জমজমাট হয়ে উঠছে। সবার হাতেই স্মার্ট ফোন থাকায় বিভিন্ন সাইটে লাইভ খেলায় জমে উঠছে জুয়ার আসর।
নবীনগর পৌরসভা সহ নবীনগরের সত্যটি
 ইউনিয়ন বেশিরভাগ খেলা নিয়ে বাজি ধরা হয়। এদের মধ্যে আবার অনেকেই আছেন যারা পেশাদার জুয়াড়ি। শুধু আইপিএল নয়, তারা সারাবছরইসিপিএল,বিগব্যাশ,মোবাইলে লুডু খেলা আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বিভিন্ন কাউন্টি ম্যাচ নিয়ে প্রতিনিয়ত বাজি ধরে থাকেন। তাদের মধ্যে আবার অনেকেই আছেন যারা অধিক লাভের আশায় জুয়ার বিভিন্ন সাইটে টাকার বিনিময়ে ডলার বিনিয়োগ করেন। অনেকসময় এসব সাইটের টাকা অযাচিত কারণে উধাও হওয়ার খবরও পাওয়া যায়। এভাবে অনেকেই লাভের আশায় সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। তবুও নেশায় আসক্ত হয়ে বাজি খেলা ছাড়া তারা থাকতে পারেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,   বিভিন্ন অঞ্চলের অলিগলিতে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে, টেস্ট, টি-২০ আসর, এমনকি দেশ-বিদেশের ঘরোয়া লিগ নিয়ে নিয়মিত চলে জুয়া। কোন দল জিতবে, কোন খেলোয়াড় কত রান করবে, কোন বোলার কয়টা উইকেট নেবে- এমন অনেক বিষয় নিয়ে বাজি ধরা হয়। সাধারণত জুয়ার খেলোয়াড়রা দুইভাবে বাজি ধরে থাকে। প্রথমত, একসঙ্গে কোনো দোকান, সেলুন, হোটেল বা ঘরে বসে জুয়া খেলে। এরা বাজির টাকা নগদ পরিশোধ করে। দ্বিতীয়ত, বাড়ি,  বা অন্যত্র বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচিতদের সঙ্গে বাজি ধরে। এরা টাকা লেনদেন করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। জুয়ার টাকার পরিমাণ ৫০০ টাকা থেকে হাজারের বেশি পর্যন্ত হয়। প্রতি ওভার কিংবা প্রতি বলেও বাজি ধরা হয়।
দোকানদার, সেলুনের নাপিত, ছাত্র সমাজ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এ জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী বেশি। লোভের বশবর্তী হয়ে দিনমজুর ও জুয়া খেলছেন। এদের কেউ কেউ বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি করে ও সুদে ঋণ নিয়ে জুয়ায় অংশ নিয়ে সব হারাচ্ছেন। খেলা শুরুর আগেই জুয়াড়িরা টেলিভিশন বা মোবাইলের সামনে বসে পড়েন। সবার হাতে হাতে থাকে মোবাইল ফোন। সচেতন মহলের মতে, আইপিএল জুয়া শুধু  নয়, জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এ জুয়ায় নবীনগর পৌরসভা সহ তরুণ ও যুবকরা বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। খেলা হচ্ছে বিনোদন। এটি উপভোগ করার মনমানসিকতা তৈরি করতে হবে। এটি কখনও জুয়ার মাধ্যম হতে পারে না। খেলাকে উপভোগ না করে জুয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করলে অনেক বড় অঘটন ঘটতে পারে।
 যেকোনো ধরণের জুয়া খেলা হারাম। জুয়া মানুষের মস্তিষ্ক খারাপ করে ফেলে। যারা বাজিতে হেরে যায় তারা টাকা খুইয়ে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো জঘন্য কাজেও লিপ্ত হয়। এটি একটি জঘন্যতম অপরাধ। জুয়ায় জড়িত অপরাধীদের ধরে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের এমনভাবে শাস্তি দিতে হবে যেন অন্যরা আর জুয়ায় আগ্রহ না দেখায়।
 প্রত্যেক তরুণের অভিভাবককে এ ব্যাপারে নজর রাখা উচিত।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *