সংবাদ শিরোনাম :
«» টঙ্গীতে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি’র ১৭তম শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া ও ইফতার মাহফিল «» বেস্ট অফ দ্যা মিলেনিয়াম এসএসসি ২০০০ব্যাচ বাংলাদেশ এর উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ «» গাজীপুরের টঙ্গীতে সেবক সংগঠনের উদ্যোগে মটর শ্রমিকদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ «» অন্তিম আলো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন এর পক্ষ থেকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ «» যশোরের শার্শা থেকে ০৪ কেজি গাঁজা সহ মহিলা আটক «» ২৩ রমজানেও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সেহরি বিতরণ অব্যাহত «» কমলাপুরের ছিন্নমূল মানুষদের জন্য সাহরীর ব্যবস্থা করল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ «» বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ইফতার বিতরণ «» বেনাপোলে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি, ক্রেতাদের ক্ষোভ «» ময়মনসিংহের ত্রিশালে পথশিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

ফ্রী ফায়ার গেম করুণা ভাইরাস এর চেয়েও ভয়ঙ্কর

আতাউর রহমান কাজল ঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর  উপজেলাসহ সম্পূর্ণ ইউনিয়ন  ও বাংলাদেশের সর্বত্র এ খেলা হচ্ছেl আমাদের মনে রাখতে হবে আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ l আমরা চলে এসেছি আধুনিক বিশ্বে আমাদের সময় বদলেছে, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও প্রবেশ করেছি ইন্টারনেটের যুগে।
শুধু কথা বলার জন্য ছোট মোবাইল ফোন যেন ব্যবহার হচ্ছে না। সরলমনা বাবা-মার কল্যাণে শিশু, কিশোর, কিশোরীদের হাতেও এখন স্মার্টফোন। আদুরে সন্তানদের আবদার পূরণ করতে গিয়ে বাবা-মাকে ফোন, ইন্টারনেটের ডাটা ও গেম কিনতে গুণতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। দেশে শিশু-কিশোরদের প্রিয় গেম এখন পাবজি, ফ্রি ফায়ার। ফ্রি ফায়ার গেম ২০০ ডায়মন্ড ১৬৫ টাকা, ৫২০ ডায়মন্ড ৪১৫ টাকা, ১০৬০ ডায়মন্ড ৮৪০ টাকা। এভাবে ৫৬০০ ডায়মন্ড ৩৯৫০ টাকা (কম-বেশি) পর্যন্ত ফ্রি ফায়ার গেম কিনছে শিশু-কিশোররা। এই অর্থ কোনও না কোনওভাবে অভিভাবকদের নিকট থেকে নিচ্ছে তারা। ছোটবেলা থেকে ব্যয়ের সাথে এভাবে পরিচিত হয়ে উঠার ফলে সঞ্চয়ী মনোভাব তাদের কমে যাচ্ছে। সঞ্চয়ী মনোভাব কমে গেলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুবকদের চাকুরির পিছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার যে পরামর্শ দিয়েছেন তা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না
ইউটিউব দেখার আসক্তিকে পুঁজি করে পুঁজিপতিরা লুটে নিচ্ছেন অর্থ, গড়ছেন সম্পদ। মোবাইল অপারেটরগুলোও এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন ইন্টারনেট প্যাকেজের সময় বেঁধে দিয়ে। নির্ধারিত সময় চলে গেলেই ডাটা কেটে নেয়া হবে, তাই ডাটা শেষ করার জন্য শিশু, কিশোররা চালায় বিরতিহীন প্রচেষ্টা। পকেট খালি হচ্ছে অভিভাবকদের, নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ে তোলার মূল্যবান সময়। ফোনে চার্জ অথবা ডাটা না থাকলে দেখা দিচ্ছে তাদের মধ্যে অস্থিরতা। টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে অথবা শিক্ষা উপকরণ কেনার নাম করে বাবা-মা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে অর্থ নিয়ে কিনছে গেম। পরিণামে ছোটবেলা থেকে রপ্ত করছে মিথ্যে বলার অভ্যাস। দেখা দিচ্ছে খিটখিটে মেজাজ, চোখের সমস্যা, বাবা-মায়ের সাথে করছে দুর্ব্যবহার।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে এমন শিক্ষার্থীরাও তাদের বাবা-মায়ের ফোনে খুলছে ফেসবুক আইডি, তৈরি করছে গ্রুপ, করছে চ্যাটিং আর কিনছে গেম। ভাবা যায় ! শুধু তাই নয়। গেম কিনতে হলে নাকি ফেসবুক অথবা ই-মেইলের পাসওয়ার্ডও দিতে হয় গেম বিক্রেতাদের নিকট। কি সর্বনাশা কথা! এতে করে ভয়াবহ বিপদে পড়তে পারে শিশু, কিশোরদের সাথে অভিভাবকরাও। হতে পারে তারা ব্ল্যাকমেইলের শিকার। সামষ্টিক অর্থনীতিতে বলা হয়েছে, ‘যা তুমি জান না তা তোমাকে আঘাত বা প্রভাবিত করে না। কিন্তু যা তুমি জান তা তোমাকে ভাবিয়ে তোলে।’ এ কথাটির সাদৃশ্য রয়েছে শিশু-কিশোররা ভিডিও গেমের সাথে যে পরিচিত হয়ে উঠেছে তা থেকে বেড়িয়ে আসা বেশ কঠিন হবে তার সাথে। এ আসক্তি থেকে দেশের প্রজন্মকে রক্ষায় বাবা-মাসহ অভিভাবকবৃন্দ যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারলে তবেই মিলবে সমাধান। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে হেফাজত করেন।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *