সংবাদ শিরোনাম :

বউয়ের ছবি কেন আপলোড দেয়া লাগবে?

আতাউর রহমান কাজল
বিয়ে করা ফরজ এটা পাগলেও বুঝে কিন্তু বউকে যে পর্দা রাখা ফরজ অনেক নেতা এবং শিক্ষিত লোকেরা জানেনা আমরা যারা সংবাদ প্রচার করে থাকি তাদের বিরুদ্ধে  আমরা সাংবাদিকরা হয়ে যায় সাংঘাতিক l
 বউয়ের ছবি ফেসবুকে আপলোডের লোভ যারা সামলাতে পারে না, তাদের উদ্দেশ্যে  l ভাইয়েরা আপনারা যারা নিজেদের স্ত্রীদেরকে পরপুরুষের চোখের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করছেন, স্ত্রীদের ছবি ফেসবুকে দিয়ে সবাইকে দেখাচ্ছেন, স্ত্রীকে সাজিয়ে নিয়ে বাইরে বের হচ্ছেন আর পরপুরুষ ও লম্পটরা চোখকে পরিতৃপ্ত করছে সেসব প্রত্যেক পুরুষের  জ্ঞান থাকা আবশ্যক। একজন পুরুষ হাদিসের ভাষ্যমতে সে তার বোন, স্ত্রী, কন্যাদের বেপর্দাভাবে চলাফেরা করাকে বন্ধ না করে, তাদেরকে অশ্লীলতা, ব্যভিচার থেকে দূরে না রাখে। যেসব ভাইয়েরা এখনও দাইয়্যুসের কাতারে আছেন আজই তাওবা করুন, নিজের পরিবারের মহিলাদের বুঝান, দাওয়াহ দিন। তারপরও না বুঝলে বাধ্য করুন, কেননা তাদের ব্যাপারে আপনি জিজ্ঞাসিত হবেন। এমনকি আপনার জান্নাত জাহান্নামও অনেকাংশে তাদের উপর নির্ভর করছে। কারণ তারা আপনার অধিনস্ত।
 বেপর্দা স্ত্রী হোক বা পর্দানশীল, কোন পুরুষ যদি তার স্ত্রীর সাথে তোলা অন্তরঙ্গ ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারের অনুমতি দেয়, তার মানে কিন্তু একটাই- তার ভালো লাগে অন্যরা তার স্ত্রীকে কামনার বস্তু মনে করলে, হয়ত কিছুটা গর্ববোধও হয়ে থাকে। শুনতে খারাপ শুনাচ্ছে হয়ত, কিন্তু ছবিগুলোতে বন্ধুদের মন্তব্য পড়লেই ব্যাপারটা স্পষ্ট বোঝা যায়- ‘ইসস, কবে পাব এরকম একটা বউ।’ অথবা ‘যা লাগতেসে না, হট কাপল।’, বা ‘আমাকেও খুঁজে দে রে এরকম বউ।’ আচ্ছা, আপনার সুন্দর বউটাকে আপনার থাকতে দিন না, সবার সাথে শেয়ার করার কি একান্ত প্রয়োজন? মনে রাখবেন, যে আপনার বউকে সুন্দর, হট, চরম বিশেষণে প্রশংসা করছে, সে নিশ্চয়ই মনে মনে সব রকম মাপ-জোঁক করে ফেলেছে- আপনার স্ত্রীর কোমরের বাঁক, দীঘল কালো চুল, সুকোমল বাহু- কিছুই তার চোখে বাদ পড়েনি। পর্দার প্রয়োজনীয়তা ঠিক এখানেই।আমার স্ত্রী সর্বাবস্থায় আমারই স্ত্রী। আমার স্ত্রীর সৌন্দর্য উপভোগ ও অবলোকনের পূর্ণ অধিকার একমাত্র আমারই। যে কোন স্ত্রীর রূপ ও ভূষণ-সজ্জার সৌন্দর্য-দর্শনের একমাত্র হকদার সেই মহিলার স্বামী। এই যদি হয়ে থাকে সর্বজন স্বীকৃত সত্য, তাহলে আমার স্ত্রীর চেহারা দশজনকে আহবান করে দেখাবার কোন প্রয়োজন পড়ে না। পকেটের পয়সা খরচ করে পত্রিকায় এ্যাড ছাপিয়ে পরোহ্মভাবে এ কথা বুঝবার-ও তো দরকার পড়েনা যে, দেখ দেখ দুনিয়ার মানুষ আমি কি একখানা চীজ পেয়েছি l
নিজের ভোগের বস্তুকে এত পাবলিসিটি দিলে স্বাদ আর কিছু থাকে না। যার কাছে যে বস্তু যত বেশী দামী, সেই বস্তুর মালিক তত সযতনে তা সংরহ্মণ করে থাকেন। যে মালিক তার প্রিয় দামী বস্তুর কদর বুঝে না, সে এই মূল্যবান বস্তুটি এখানে সেখানে ফেলে রাখে, হাজার জন দেখে, নাড়াচাড়া করে, হাজার কথা বলে। এসব কথার মাঝে অশ্লীল মন্তব্যও থাকে বেশী। পাবলিসিটি আর প্রদর্শনী করলে মস্তানেরা কাছে ভিড়বার সুযোগ পায়।
আপনি জানেন কি? কোথাও গেলেই ছবি তোলার এবং তা ফেসবুকে আপলোডের চিন্তা যদি আপনার মনে জাগে, তাহলে তা একটা মানসিক রোগ। আপনি এই রোগের উচ্চমানের রোগী নন তো? আপনি দু’জনের অন্তরঙ্গতা এখন ফেসবুকে চেনা অচেনা সবাইকে দেখিয়ে লাইক … এমন কিছু করতে যাবেন না ।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *